জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তাহলে দলটি আবারও বড় ধরনের বিপদে পড়বে। একই সঙ্গে এটি দেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার রহিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ‘মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি স্পষ্টভাবে বলতে চান—বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যে ইতিবাচক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে তিনি একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে সম্মান করেন, তবে ইতিহাসের এক পর্যায়ে তিনি একটি বড় রাজনৈতিক ভুল করেছিলেন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার খেসারত দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষকে দিতে হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, যে দল বাকশালের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল, সেই আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফেরানোর ফল কী ভয়াবহ হতে পারে, তা দেশের মানুষ অতীতে প্রত্যক্ষ করেছে।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিনগুলো কীভাবে অসীম কষ্টের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন, তা সবাই দেখেছে। একইভাবে ১/১১-এর সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপির রাজনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টাও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ রোধ করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। গণভোটের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটবে এবং গণতান্ত্রিক পথ সুসংহত হবে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়া বগুড়া জেলার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
‘মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা’ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক সরকার, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।











