মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন শওকতুল ইসলাম শকু। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের এই প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এম সায়েদ আলীর চেয়ে ১৬ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর পর আসনটি পুনরুদ্ধার করল বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, শওকতুল ইসলাম শকু পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এম সায়েদ আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ১৫৩ ভোট।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ-পিরিচ) পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৭২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ খান (ফুটবল) পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬১৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা (ঘোড়া) পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৩ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি) পেয়েছেন ৫৭৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫০২ ভোট এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৪৮১ ভোট।
এ আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪২৯ জন। মোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৬। বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৫০ এবং বাতিল ভোট ৪ হাজার ৫২৬। ভোটের হার ছিল ৫৫.৮০ শতাংশ।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৮০ হাজার ৮৩৪ এবং ‘না’ ভোট ৬৭ হাজার ৩০৫।
ফলাফল ঘোষণার পর কুলাউড়া উপজেলা জুড়ে ধানের শীষের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক বিজয় উল্লাস করেন।
প্রতিক্রিয়ায় শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, এ বিজয় সমগ্র কুলাউড়াবাসীর। দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিকসহ সকল ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এম এম শাহীন জয়ী হন। এরপর দীর্ঘ সময় আসনটি বিএনপির বাইরে ছিল। এবারের নির্বাচনে শওকতুল ইসলাম শকুর বিজয়ের মাধ্যমে হারানো আসন পুনরুদ্ধার করল বিএনপি।











