জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং সেক্টরসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব দেন। কিন্তু বিএনপি সরকার তাকে সরিয়ে দিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনার ক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হন। তিনি বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করে আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করতে কাজ করেন। এছাড়া পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বন্ধ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তারা গভর্নরের পদক্ষেপকে ব্যাহত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে হঠকারি ও অগণতান্ত্রিক আচরণ শুরু করেন। গভর্নরের উপদেষ্টাকে শারীরিক হেনস্তা করে ব্যাংক থেকে বের করা হয়। নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কয়েকজন কর্মকর্তা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার অভিজ্ঞ গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বিতর্কিত একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে। ওই ব্যক্তি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণখেলাপি ছিলেন। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর বিদেশে অর্থপাচারের পথ আবারও সুগম করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি সরকারের এমন অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।











