দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচার এখন তুঙ্গে। প্রার্থীরা দিনরাত একাকার করে প্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনে শুধু মিষ্টি কথা ও আশ্বাসে ভোটারদের মন গলে না; প্রয়োজন অর্থ। নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই কালোটাকার ছড়াছড়ি বাড়ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে আসনভিত্তিক সর্বোচ্চ সীমা অনুযায়ী, প্রার্থীরা গাজীপুর-২ আসনে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। অন্যদিকে ঝালকাঠি-১ আসনে সর্বনিম্ন ব্যয় ২৫ লাখ টাকা নির্ধারিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা ব্যয়ের জন্য ব্যাংক থেকে নগদ উত্তোলন করছেন।
নির্বাচনে কালোটাকার ব্যবহার কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও নির্বাচন কমিশন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার লেনদেন সীমিত করা হচ্ছে, যেখানে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সেবা গ্রাহকরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও অবাধে কালোটাকার ব্যবহার কমাতে সহায়ক হবে, তবে পুরোপুরি বন্ধ হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিছু প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নিজেদের আখের গোছানোর জন্য এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে কালোটাকার ব্যবহার করেন। নির্বাচনে জিতে তারা লুটপাট শুরু করে এবং লাভসহ খরচের টাকা তুলে নিয়ে যায়। এ দুষ্টচক্র বন্ধ না করলে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে না এবং গণতন্ত্র বিকশিত হবে না। ভোটার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।











