জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীত নিয়ে পড়ে থেকে বিভাজনের রাজনীতি আর করতে চান না তারা। ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি ফরোয়ার্ড লুকিং বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী রাজধানীর নিজ নির্বাচনি এলাকা কাফরুল, মনিপুরীপাড়া ও মিরপুর-১৫ এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এ সময় তিনি মিরপুরসহ ঢাকা মহানগরীকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে জান, মাল ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে এবং সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবেন। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর রাজনীতি বন্ধ করা হবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পণ্যের দাম সহনীয় রাখা হবে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নগর সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত উচ্ছেদে নয়, বরং মানবিক ও নিরাপদ বস্তি উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে বিশ্বাস করে। যানজট, ফুটপাত দখল ও ময়লার স্তূপ ঢাকার বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস রুট শৃঙ্খলায় আনা হবে, মেট্রোরেলের পরিসর বাড়ানো হবে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
এদিকে বিকেলে রাজধানীর মনিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতের মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, কর্মজীবী মায়েদের জন্য ৫ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা পরিবার ও সন্তানদের সময় দিতে পারেন। তবে কেউ স্বেচ্ছায় ৮ ঘণ্টা কাজ করতে চাইলে তাতেও আপত্তি থাকবে না।











