দেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তাহলে বিনিয়োগের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ প্রণোদনা হিসেবে পাবেন।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বোর্ডের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নীতিগতভাবে অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এটি প্রবাসী আয়ের বিদ্যমান ক্যাশ ইনসেনটিভ ব্যবস্থার মতোই কার্যকর হবে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ আরও বলেন, যারা ব্যক্তিগত ভোগের পরিবর্তে শিল্প ও ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ আনবেন, এই নীতির মাধ্যমে তাদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তাহলে সরকার তাকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ প্রণোদনা দেবে।
তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেসব দেশে বসবাস করছেন, সেসব দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ মহলে তাদের শক্ত সংযোগ রয়েছে। সেই সংযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ জন্য প্রস্তাবটি শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান বিডা চেয়ারম্যান।
এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরেকটি উদ্যোগ হিসেবে বিদেশে বিডার অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে চীনে অফিস খোলা হবে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশে অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অফিসে কমিশনভিত্তিক পারিশ্রমিক ব্যবস্থায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, যেখানে বিনিয়োগ আনতে পারার সাফল্যের ওপর পারিশ্রমিক নির্ধারিত হবে।











