হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ওরফে ব্যারিস্টার সুমন জামিন পেয়েছেন—এমন দাবিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে তার কিছু ছবিও সংযুক্ত করা হয়। তবে অনুসন্ধানে তার জামিনের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি; বরং ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি বা পুরোনো বলে প্রমাণ মিলেছে।
ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমে তার জামিন সংক্রান্ত খবর পাওয়া যায়নি। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোর একটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলখানার গেটে গলায় ফুলের মালা পরানো অবস্থায় যে ছবি প্রচারিত হয়েছে, সেখানে থাকা দুটি ব্যানারে স্পষ্ট বানান বিভ্রাট রয়েছে—যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবিতে প্রায়ই দেখা যায়।
এছাড়া এআই শনাক্তকারী টুল ‘হাইভ মডারেশন’-এ পরীক্ষা করে ছবিটি ১০০ শতাংশ কৃত্রিম হওয়ার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। ফলে জামিন পাওয়ার পর তাকে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বরে বোনের বাসা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় বিষয়টি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুর থানার দুইটি হত্যাচেষ্টা মামলা ও খিলগাঁও থানার একটি হত্যা মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।
এ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি কারাগারে থেকেই আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
সবদিক পর্যালোচনায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত পোস্টগুলো ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে।











