বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন হলেও তা অসম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নয়াদিল্লিভিত্তিক সাংবাদিক শাহাদাৎ স্বাধীনের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়। এতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, দেশের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো এবং অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে নিজের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) যেখানে প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য কি বাস্তবসম্মত? উত্তরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি মূলত দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে—পোশাক খাত ও রেমিট্যান্স। তবে ভবিষ্যতে আইটি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, আইটির পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালকা প্রকৌশল, জুতা শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্য খাতেও বড় সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে দ্য ডিপ্লোম্যাট জানতে চায়, এমন বাস্তবতায় কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখা যায়। জবাবে তারেক রহমান বলেন, এসব ঘটনা ঘটেছে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব ছিল। জনগণের অর্থ লুটপাট হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভবিষ্যৎ সরকার একই পথে হাঁটবে না—এমন নিশ্চয়তা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির অঙ্গীকার হলো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, বিএনপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন দলীয় কর্মসূচিতে সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়ছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘দ্য প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের ভাবনা সরাসরি শুনছেন।
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পাঁচটি বিশেষ সেবার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে দরিদ্র নারীদের জন্য মাসিক ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্মার কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হেলথ কার্ড, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বলয়ে না থেকে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশ রক্ষায় বিএনপির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণ। তারেক রহমানের মতে, জলবায়ু তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও দুর্নীতি রোধ করা গেলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব।











