ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেছেন। এই তৎপরতা দলের নির্দেশে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে নাকি বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতার অংশ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নির্বাচনের পরও নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় খুলে প্রবেশ করেছেন। কিছু জায়গায় কার্যালয় খোলার পর পাল্টা দখল ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আত্মগোপনে থাকা দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলছেন, কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত না হওয়ায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সেখানে যাওয়ার বাধা নেই। ২০২৫ সালের মে মাসে ইউনূস সরকারের প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
তবে বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে ‘ঝটিকা মিছিল’ বের করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। দলের সূত্র বলছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঢাকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে মারধরের শিকার হলেও এটি কিছুটা সাহস জুগিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর ফলে নির্বাচনের পর অনেক এলাকায় কার্যালয় খোলার আশ্বাস পেয়েছেন। তবে কিছু জায়গায় আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।











