গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের গুরুত্ব অপরিসীম। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এর মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হতে যাচ্ছে।
নেতৃত্ব মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ আমানত। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দেন, তোমরা আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করবে’।
নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান ব্রত হওয়া উচিত প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা। ক্ষমতা যেন ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার না হয়। সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য। অযোগ্যকে দায়িত্ব দেওয়া আমানতের খেয়ানত।
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা দেশের সমৃদ্ধির পূর্বশর্ত। এছাড়া জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, মজুদদারি ও চাঁদাবাজি রোধে জনপ্রতিনিধিদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য ও ওষুধ নিশ্চিত করা নাগরিকদের অধিকার। ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিটি রাষ্ট্রে অপরিহার্য।
শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত। ভিনদেশি বা অপসংস্কৃতির প্রভাব শিক্ষায় থাকা কাম্য নয়। জনপ্রতিনিধিদের উচিত এমন আইন ও পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সব নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম পালন ও মতপ্রকাশের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবে।
শেষে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান—ক্ষমতাকে আমানত মনে করে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাকওয়ার সঙ্গে কাজ করবেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেকেই একজন রাখাল এবং প্রত্যেককেই তার অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’। ক্ষমতাকে সততার সঙ্গে পরিচালনা করলে এবং নাগরিকরা দায়িত্বশীল হলে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব ইনশাআল্লাহ।











