ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, একটি দল ইসলামের দোহাই দিয়ে ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়ে উঠেছে।
তারা ইসলামী শাসন ব্যবস্থার কথা বললেও মূলত বর্তমানে প্রচলিত নিয়মেই দেশ পরিচালনা করতে চায়, যা ইসলামী হুকুমতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব সেলিম মাহমুদের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করিম বলেন, ক্ষমতার লোভে ওই দলটি আমেরিকা ও ভারতের আধিপত্যের প্রতি নতজানু হয়ে পড়েছে। তাদের কথা ও কাজের কোনো মিল নেই। বাহ্যিকভাবে সোনার মতো চকচক করলেও ভেতরে সেগুলো প্রকৃত সোনা নয়—ইমিটেশন মাত্র।
তিনি বলেন, ঠিক তেমনি কিছু লোক ইসলামের লেবাস পরে ইসলামের দোহাই দেয়। তারা প্রকৃত ইসলামী দল নয়; বরং ভিন্ন দেশের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। ইসলামের নাম ব্যবহার করে তারা আমেরিকা ও ভারতের মতো দেশের আদর্শ ও বিদেশি সংস্কৃতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, আমরা এদেশে একাধিকবার বিএনপির শাসন দেখেছি এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনও প্রত্যক্ষ করেছি। মুখে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী কথা বললেও ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা দুর্নীতিতে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর জোটে থাকা একটি দল নিজেদের স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত বলার সুযোগই রাখে না।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামের দোহাই দিয়ে জান্নাতের টিকিট দেওয়ার নামে তারা প্রকৃত মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং ঈমান-আকিদার ওপর আঘাত করছে।
রেজাউল করিম বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া গড়ে তুলেছে। দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের কাছে অপমানিত করেছে এবং অসংখ্য মায়ের কোল শূন্য করেছে। ৫৪ বছর ধরে যে নীতি-আদর্শে দেশ পরিচালিত হয়েছে, তাতে জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর ইসলামের পক্ষে নতুন করে আওয়াজ উঠেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র দল, যারা এ দেশে মদিনার আদর্শভিত্তিক ইসলাম কায়েমে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জনসভায় হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা হাফিজুর রহমান, মুফতি ইমরান হোসাইন, মাওলানা আবু ইউসুফ ফারুকী, মুফতি হাবিবুল্লাহ ঈমন, মাওলানা আহমদ উল্লাহসহ ইসলামী আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।











