দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান আজ ৪০ বছরে পা রাখলেন। কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসানের কন্যা হলেও বাবার পরিচয়ের আড়ালে না থেকে নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম ও বহুমুখী দক্ষতার মাধ্যমে বিনোদন জগতে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। বলিউডে সীমিত সংখ্যক সিনেমা করলেও দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি এখন প্রতিষ্ঠিত ও প্রথম সারির অভিনেত্রীদের একজন।
অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও রয়েছে শ্রুতি হাসানের শক্ত অবস্থান। শুধু পর্দায় অভিনয় নয়, একজন দক্ষ গায়িকা হিসেবেও তিনি ভক্তদের কাছে সমান জনপ্রিয়। তাঁর কণ্ঠের আলাদা আবেদন রয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করেছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে শ্রুতি হাসানের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫ কোটি রুপি। বয়স মাত্র ৪০ হলেও ইতিমধ্যেই তিনি বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন, যা এসেছে অভিনয়, সংগীত ও ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট—এই তিন মাধ্যম থেকেই।
২০০০ সালে কমল হাসান পরিচালিত ‘হে রাম’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে যাত্রা শুরু করেন শ্রুতি। এরপর ২০০৯ সালে ‘লাক’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ওই ছবিতে নিজেই গান গেয়েছিলেন শ্রুতি। পরবর্তীতে ‘দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি’, ‘ডি-ডে’, ‘গব্বর ইজ ব্যাক’সহ একাধিক হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন।
তবে তার ক্যারিয়ারের প্রকৃত সাফল্য আসে দক্ষিণী সিনেমায়। তামিল, তেলুগু ও কন্নড় ভাষার অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রথম সারির অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জানা যায়, একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ৬ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের প্রচারেও যুক্ত শ্রুতি হাসান। একটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তির জন্য তিনি আনুমানিক ৫ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নেন। সব মিলিয়ে তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৫০ লাখ রুপি, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি রুপি। এছাড়া মঞ্চে গান গেয়ে একটি অনুষ্ঠানের জন্য তিনি প্রায় ১ কোটি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন।
সম্পত্তির দিক থেকেও কম যান না এই তারকা। মুম্বাইয়ে তাঁর একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যার অন্দরসজ্জায় ব্যয় হয়েছে বিপুল অর্থ। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাঁর আরও একাধিক বাসস্থান। গাড়ির সংগ্রহেও নজর কাড়েন শ্রুতি—রেঞ্জ রোভার, অডি ও টয়োটাসহ একাধিক দামি গাড়ি রয়েছে তাঁর মালিকানায়।
সব মিলিয়ে অভিনয়, সংগীত ও ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট—তিন ক্ষেত্রেই সফলভাবে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন শ্রুতি হাসান। ৪০ বছরে পা দিয়েও তাঁর ক্যারিয়ার যে এখনও ঊর্ধ্বমুখী, তা বলাই বাহুল্য।











