ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতি প্রচারের পর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তার উত্তরসূরী কে হবেন—এ প্রশ্নে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার উত্তরসূরী নির্ধারণের দায়িত্ব থাকে ৮৮ সদস্যের একটি ধর্মীয় পরিষদের ওপর, যা Assembly of Experts নামে পরিচিত। প্রতি আট বছর অন্তর এই পরিষদের সদস্যরা নির্বাচিত হন।
তবে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে প্রার্থীদের অনুমোদন দেয় আরেকটি প্রভাবশালী সংস্থা—Guardian Council। এ কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়োগ দেন দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিজেই। ফলে ক্ষমতার এই কাঠামো ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর খামেনি ছিলেন দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। তার মৃত্যু ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্ভাব্য উত্তরসূরীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীরা বলছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।











