ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অস্ত্রভাণ্ডার কতটা শক্তিশালী এবং তা দ্রুত কমে আসছে কি না—এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রশস্ত্রের কার্যত অফুরন্ত সরবরাহ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের শত্রুকে প্রতিরোধ করার মতো অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখার মতো মজুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। তবে অস্ত্রের ভাণ্ডার এবং তা দ্রুত পুনরায় উৎপাদনের সক্ষমতা যুদ্ধের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত শুরু থেকেই উচ্চমাত্রার হামলা-পাল্টা হামলার মাধ্যমে চলছে, যার ফলে দ্রুত অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে।
একটি নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতিমধ্যে দুই হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বিভিন্ন ধরনের বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজারের বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরান শয়ে শয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও এখন সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। পশ্চিমা সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার প্রায় ৮৬ শতাংশ কমেছে। একইভাবে ড্রোন ব্যবহারের হারও কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এর একটি কারণ হতে পারে অস্ত্রভাণ্ডার সংরক্ষণ করে রাখা। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য মজুত ধরে রাখার কৌশলও অনেক সময় গ্রহণ করা হয়। এছাড়া উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা এবং সরবরাহ নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। দেশটির কাছে বিপুল পরিমাণ প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। তবে তাদের অনেক আধুনিক অস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যায় তৈরি করা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে সেই অস্ত্রের সরবরাহ বজায় রাখা নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র দূরপাল্লার ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও এখন তুলনামূলক কম খরচের বোমা ও অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এতে করে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা সহজ হয়।
তবে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সীমিত সরবরাহের মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। উদাহরণ হিসেবে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, যার প্রতিটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র বছরে সীমিতসংখ্যক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে দুই পক্ষেরই অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ বাড়বে। তবে সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হচ্ছে।











