মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা সম্পর্কে রাশিয়া গোপনে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে—এমন অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব পুরোপুরি অবগত রয়েছে। প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে যেসব কার্যক্রম চলছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
হেগসেথ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে কৌশলগতভাবে চাপে রাখা। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এর আগে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান এবং তৎপরতা সম্পর্কে রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ওই আলাপে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় সমবেদনা জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। উত্তেজনা যাতে আরও না বাড়ে, সে জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিভিন্ন শক্তিধর দেশের কৌশলগত অবস্থান এবং পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টি এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।











