ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সংঘাত টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষেই হতাহত হয়েছে বহু মানুষ। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েক ডজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য ভিন্ন হতে পারে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও কয়েকজন নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত থামানো না গেলে তা বিশ্বশান্তির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় জড়িত নয়। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি সতর্ক করেছেন, ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনা ও নাগরিকদের ঝুঁকিতে ফেলছে।
চীন
চীন ইরানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
রাশিয়া
রাশিয়া-ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির মৃত্যুকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মস্কো সতর্ক করেছে, এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জার্মানি
জার্মানি ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জার্মান সূত্র বলছে, আঞ্চলিক হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ফ্রান্স
ফ্রান্স-এর এক সরকারি মুখপাত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি সবার জন্য বিপজ্জনক।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যরা
ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতালি-র প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি উত্তেজনা কমাতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
অস্ট্রেলিয়া-র প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেছেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তারা সমর্থন করেন।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলোর অবস্থান বিভক্ত—কেউ সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে, কেউ নিন্দা জানাচ্ছে, আবার কেউ কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।











