জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস আফগানিস্তানে ন্যাটো মিত্র বাহিনীকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। ইউরোপীয় রাজনীতিক ও সাবেক সেনাদের সমালোচনার সুরের সঙ্গে সুর মিলিয়েই তিনি এই আহ্বান জানান।
গত সপ্তাহে ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই ন্যাটোর প্রয়োজন হয়নি এবং আফগানিস্তানে মিত্র বাহিনীগুলো ‘সামনের সারি থেকে কিছুটা দূরে’ অবস্থান করেছিল। এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
রবিবার রাতে জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির এক টক শোতে পিস্টোরিয়াস বলেন, ‘এভাবে মিত্রদের নিহত সেনাদের নিয়ে কথা বলা ঠিক নয় এবং তা অসম্মানজনক। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে। আজ ভিন্ন কিছু দাবি করা একেবারেই সত্য নয়।’
আফগানিস্তানে ন্যাটোর ‘অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম’ ও ‘রিজলভ সাপোর্ট’ মিশনে হাজারো জার্মান সেনা অংশ নেন। এসব অভিযানে জার্মানির ৫৯ জন সেনা নিহত হন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার হামলার পর এসব সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।
পিস্টোরিয়াস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে তিনি বিষয়টি তুলবেন এবং ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করবেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটি শালীনতা, সম্মান এবং উপলব্ধির একটি নিদর্শন হবে।’
এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ ইউরোপের আরও কয়েকজন নেতা ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। স্টারমার এই বক্তব্যকে ‘সত্যিই ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেন, যা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলা তাঁর অবস্থান থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও ট্রাম্প শনিবার ‘সাহসী’ ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করেন, তবে আগের মন্তব্যের জন্য তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি কিংবা অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেননি। আফগানিস্তানে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা এবং নিজেদের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে আসছেন।
জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠনের উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়া পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপকে মেনে নিতে হবে যে গত ৭০ বছরের মতো করে আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না। তবে তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে জার্মান সামরিক বাহিনী বর্তমানে ‘চমৎকার পথে’ রয়েছে।











