মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ (শান্তি বোর্ড) নতুন করে সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। কারণ, এই বোর্ডের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রায় অর্ধেকের নাগরিকই ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। অনুষ্ঠানে তিনি একাধিক দেশের প্রতিনিধিকে স্বাগত জানিয়ে তাদের ‘বন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দেন।
বোর্ডের সদস্য হিসেবে যেসব দেশের নাম ঘোষণা করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্দান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও উজবেকিস্তান। তবে ইউরোপের কোনো দেশের প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
চলতি বছর অভিবাসন ও প্রবেশ সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করে। এই তালিকায় থাকা আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্দান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান ও উজবেকিস্তানের নাগরিকরাই আবার ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্যভুক্ত। ফলে বোর্ডটির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
বোর্ড অব পিসকে ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। শুরুতে গাজা উপত্যকার শাসন কাঠামো নিয়ে কাজ করার কথা বলা হলেও, পরে প্রকাশিত এক নথিতে মূলত আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, বোর্ড অব পিস সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই থাকবেন এবং সদস্য অন্তর্ভুক্ত বা অপসারণের ব্যাপারে তার হাতে ব্যাপক ক্ষমতা থাকবে।
বোর্ডের সদস্য হতে প্রত্যেক দেশকে ১ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ‘নতুন গাজা’ পরিকল্পনার সিজিআই ছবি উপস্থাপন করেন, যেখানে বিলাসবহুল আবাসন, ডেটা সেন্টার ও পর্যটন অবকাঠামোর কথা বলা হয়।
এই উদ্যোগ ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বোর্ড অব পিসের উদ্দেশ্য, বাস্তবতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।











