রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের সেদাঙ্কা নামের গ্রামে জীবন সব সময়ই কঠিন ছিল। শীতকালে তাপমাত্রা নিয়মিত মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়, অথচ বেশির ভাগ বাড়িতে নেই চলমান পানি, ঘরের ভেতরের টয়লেট বা কেন্দ্রীয় গরমের ব্যবস্থা।
বন-টুন্ড্রা ও জলাভূমি ঘেরা এই অঞ্চলের জেলা শহরে মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কেবল নদীপথ বা ট্র্যাকযুক্ত যানবাহনে যাওয়া যায়। শীতকালে যোগাযোগের একমাত্র উপায় স্নোমোবাইল বা হেলিকপ্টার।
স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত। বেশির ভাগ বাসিন্দা মাছ ধরা ও নিজের খাদ্য উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকেন। তবে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রায় সব পুরুষই রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে চলে গেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫৮ জনের এই গ্রাম থেকে ৩৯ জন পুরুষ চুক্তিভিত্তিকভাবে যুদ্ধে যোগ দেন। এর মধ্যে ১২ জন নিহত এবং ৭ জন নিখোঁজ। ২০২৪ সালের মার্চে আঞ্চলিক গভর্নর গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে নারীরা জানান, “আমাদের সব পুরুষ বিশেষ সামরিক অভিযানে চলে গেছে। শীতের জন্য কাঠ কাটার মতো কোনো মানুষ এখন আর গ্রামে নেই।”
বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউক্রেনে ৪০,২০১ জন রাশিয়ান সেনা নিহত হয়েছে, যা পুরো বছরের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮০,০০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ২০২৪ সালে নিশ্চিত নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৯,৩৬২। এখন পর্যন্ত ১,৮৬,১০২ জনের নাম শনাক্ত করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, প্রকৃত সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার থেকে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ পর্যন্ত হতে পারে।
গ্রামের পুরুষদের বড় অংশের যুদ্ধে অংশ নেওয়ায় সেদাঙ্কার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট গভীর। স্কুল জরুরি অবস্থায়, কিছু বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এবং গ্রামটি এখন পুরুষশূন্য। ২০২৪ সালে ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের’ স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। আঞ্চলিক সরকার গ্রামটিকে ‘সামরিক বীরত্বের গ্রাম’ উপাধি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তবে বেশিরভাগ প্রতিশ্রুত সহায়তা এখনও পৌঁছায়নি।











