বটিয়াঘাটা উপজেলা মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ‘গ্রামীণ বীজমেলায়’ স্থানীয় ১৭টি গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী কৃষক তাদের সংগ্রহীত দেশীয় বিলুপ্ত বীজ প্রদর্শন, বিনিময় ও বিক্রি করেন।
মেলায় ধান, মরিচশাইল, রানীস্যালোট, হিজলি, দিঘা, মোরগশাইল, কালামাণিকের বীজের পাশাপাশি আলু, পটল, ধনে, সর্ষে, সিম, তিল, তৃষি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, মৌরি, আদা, হরতকি, লাল শাক, পালংশাক, টমেটো ও কালোজিরার বীজও ছিল।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী শত শত কৃষিজীবী অংশগ্রহণ করে, যা মেলাটিকে উৎসবমুখর করেছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, আধুনিক উচ্চফলনশীল জাতের ভিড়ে দেশীয় আদি জাত হারিয়ে যাচ্ছে। এই বীজমেলার মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে বীজ বিনিময় করতে পারছেন, যা আগামী মৌসুমে চাষাবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রদর্শনীতে বীজের সংখ্যা, বৈচিত্র্য, মান ও উপস্থাপন কৌশলের ভিত্তিতে নির্বাচনী প্যানেল সুকদাড়া গ্রামের করুণা মণ্ডলকে প্রথম, বিধবা নারী নমিতা সরকারকে দ্বিতীয় এবং হালিয়া গ্রামের শিউলী মণ্ডলকে তৃতীয় স্থান দেয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী সকল নারী কৃষককে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকার বলেন, নারী কৃষকদের এই উদ্যোগ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আশাব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছে। বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার কামরুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে দেশীয় জাতের বীজই সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। প্রান্তিক নারী কৃষকরা যেভাবে বংশপরম্পরায় এই বীজ সংরক্ষণ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।







