ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে কঠোর বিকল্প পরিকল্পনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি না দেয়, তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার ছেলে মোজতাবা খামেনিসহ ধর্মীয় নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে পেন্টাগন। এর একটি বিকল্প পরিকল্পনায় ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বকে অপসারণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এই পরিকল্পনা ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে। আরেকজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যা তিনি রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। তবে ইরান যদি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ চিরতরে বন্ধের নিশ্চয়তা দিলে সীমিত পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কূটনৈতিক আলোচনার একাধিক ধাপ ব্যর্থ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। তবে এখনো কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ কিছু নীতিগত বিষয়ে একমত হয়েছে এবং ইরান শিগগিরই একটি লিখিত প্রস্তাব দেবে। তিনি বলেন, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধের বিষয়টি নয়, বরং এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখা যায়, সেই কাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি যুক্ত আছেন। প্রস্তাবের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি এবং ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সমঝোতার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের প্রস্তাব বিস্তারিত ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করবে।











