টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচিতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় রবিবার অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে। বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পাকিস্তান সরকার দলকে ম্যাচ খেলতে অনুমতি দিয়েছে।
কয়েক দিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর মধ্যে আলোচনা চলার পর সোমবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত জানায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্রিকেটের চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ সরকার পাকিস্তান দলকে ভারতের বিপক্ষে না খেলার পরামর্শ দিয়েছিল। সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, একটি বন্ধুসুলভ দেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এমন অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। তবে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলায় পাকিস্তান।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বৈশ্বিক ক্রিকেটে বড় আর্থিক ও কাঠামোগত সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব ও ভবিষ্যৎ চুক্তিগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারত, যার প্রভাব পড়ত ছোট ও উদীয়মান ক্রিকেট দেশগুলোর ওপর।
আইসিসি জানিয়েছে, গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে কোনো দেশকে শাস্তি দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগও দেওয়া হবে।
এর আগে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকেও পাকিস্তানকে ম্যাচটি খেলতে অনুরোধ জানানো হয়। আয়োজক দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কার জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে টিকিট বিক্রি ও দর্শক উপস্থিতি থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুফল পাওয়া যাবে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আইসিসি ইভেন্টে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সূচি নির্ধারিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের নজির রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করেছে।











