ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য মোহাম্মদ সিরাজের পরিকল্পনা ছিল একেবারে আলাদা। ১৫ তারিখে স্পেনের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখা, তারপর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া। রঞ্জি ট্রফিতে হায়দরাবাদ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর বিশ্রামই ছিল তার মূল লক্ষ্য। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তখন তার কাছে অনেক দূরের এক স্বপ্ন।
কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো পরিকল্পনা বদলে যায় সিরাজের। রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ বাতিল হয়ে যায় এবং ভারতের জাতীয় দলের ডাক পেয়ে তিনি মুম্বাইয়ে উড়াল দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ঠিক আগের দিন পর্যন্তও সিরাজ জানতেন না, তিনি খেলবেন কিনা।
গত ১৮ মাস ধরে টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ায় নিজেও ধরে নিয়েছিলেন, এবারের বিশ্বকাপ তার জন্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে সিরাজ বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি যে বিশ্বকাপে খেলব। যখন টি-টোয়েন্টিতে আমাকে নেওয়া হচ্ছিল না, তখন বুঝে গিয়েছিলাম, এই বিশ্বকাপ আমার জন্য না।”
সবকিছু বদলে যায় হঠাৎ করেই। ভারতের ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে হাঁটুর চোটে ছিটকে যান পেসার হার্ষিত রানা। দ্রুত বিকল্প খুঁজতে গিয়ে নির্বাচকদের নজর পড়ে সিরাজের দিকে। এরপরই ফোন আসে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের।
সিরাজ বলেন, “দু’দিন আগে সূর্য ভাই আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘মিয়াঁ, ব্যাগ গুছাও আর মুম্বাই চলে আসো।’ আমি বলেছিলাম, ‘ভাই, মজা কোরো না, এটা তো হওয়ার কথা নয়।’ কিন্তু তিনি বললেন, ‘আমি সত্যি বলছি, প্রস্তুত হয়ে যাও।’”
পরবর্তী সময়ে ভারতের নির্বাচক কমিটির সদস্য প্রজ্ঞ্যান ওঝাও একই খবর নিশ্চিত করেন। তখনই সিরাজ নিশ্চিত হন যে তিনি বিশ্বকাপে খেলবেন। যদিও তখন তার মাদ্রিদ যাওয়ার বিমানের টিকিট ইতিমধ্যেই কাটা হয়ে গিয়েছিল।
পোস্ট-ম্যাচ উপস্থাপনায় উচ্ছ্বসিত সিরাজ বলেন, “যা আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তা কেউ বদলাতে পারে না। ১৫ তারিখে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ ছিল, সেটা দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। তারপর রমজান… কিন্তু আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন, সেটাই হলো।”
মুম্বাইয়ে পৌঁছে খুব বেশি প্রস্তুতির সময় পাননি তিনি। তবে নিজের শক্তির জায়গাতেই আস্থা রেখেছেন। “রঞ্জি ট্রফিতে যে লাইন-লেংথে বল করছিলাম, সেটাই করেছি। নতুন বলে উইকেট টু উইকেট বল করাই ছিল পরিকল্পনা,” বলেন সিরাজ।
এই পরিকল্পনা ম্যাচে ফলপ্রসূ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিন উইকেট নিয়ে ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ভারত আগে ব্যাট করে ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারালেও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ৮৪ রানের ইনিংসে দল ১৬১ রান তুলতে সক্ষম হয়। পরে সিরাজের আগুনে স্পেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারত দখল করে।
ম্যাচ শেষে সিরাজ বলেন, “কেউ আল্লাহর লেখা বদলাতে পারে না। আমি এলাম, খেললাম—সবকিছু আগেই লেখা ছিল।











