উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি আবারও কিম জং উনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রবিবার পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত পার্টির কংগ্রেসে এই ঘোষণা আসে।
কিম পরিবার ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিক থেকে দেশটি শাসন করে আসছে। ২০১১ সালে তার বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর কিম জং উন ক্ষমতায় আসেন। ক্ষমতায় এসে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেন, যার ফলে উত্তর কোরিয়া পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়।
১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেস এখনো চলমান। ধারণা করা হচ্ছে, এই কংগ্রেসে দেশের অস্ত্র কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। কংগ্রেস শুরুর আগে উত্তর কোরিয়া দাবি করে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম রকেট লঞ্চারের নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে।
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বৈঠক উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার কাঠামো সম্পর্কে বিরল ধারণা দেয়। এখানে পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক কৌশল ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পার্টির ৩৯ সদস্যের কমিটির অর্ধেকের বেশি সদস্য পরিবর্তন করা হয়েছে। উদ্বোধনী ভাষণে কিম দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং এটিকে ‘গুরুতর ও জরুরি ঐতিহাসিক দায়িত্ব’ বলে উল্লেখ করেন।
এ কংগ্রেসে কিমের মেয়ে কিম জু এই-র উপস্থিতি নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, কিম জং উন তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছেন। কিশোরী কিম জু এই ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামরিক ও সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিংপিং ফোনে কিম জং উনকে পুনর্নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে পিয়ংইয়ংয়ের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।











