তাইওয়ান নিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই অঞ্চলটির কাছে অবস্থিত ইয়োনাগুনি দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা জানিয়েছে জাপান। ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে ভূমি-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে পরিকল্পনাটি প্রথম ঘোষণা করা হলেও এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়েছে।
কোইজুমি জানিয়েছেন, ইয়োনাগুনি ইউনিটে মাঝারি পাল্লার ভূমি-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হবে, যা শত্রুপক্ষের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম।
তাইওয়ান থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইয়োনাগুনি দ্বীপ থেকে অঞ্চলটির উপকূল দেখা যায়। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং অঞ্চলটি রক্ষায় শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি বেইজিং।
গত নভেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান তার আত্মরক্ষা বাহিনী সক্রিয় করার ইঙ্গিত দিলে টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
চীনের ২০টি জাপানি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের একদিন পরই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সময়সূচি ঘোষণা করেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। যদিও এ বিষয়ে বেইজিং আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গত নভেম্বরে কোইজুমির ইয়োনাগুনি সফরের পর চীন দ্বীপটির কাছে ড্রোন উড়ালে জাপান যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে জবাব দেয়।
বর্তমানে ইয়োনাগুনি দ্বীপে উপকূলীয় নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রায় ১৬০ জন সেনা সদস্য কর্মরত আছেন। ২০২৬ অর্থবছরে দ্বীপটিতে একটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট স্থাপন করা হবে, যা শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ও রাডার ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম হবে।
কোইজুমি জানান, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিট স্থাপনের কাজ শেষ হবে।’











