ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে প্রশিক্ষণরত অন্তত ২৩ জন মেরিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দেশটির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় মাটি ধসে পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নৌবাহিনীর তথ্যমতে, গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে পশ্চিম জাভার বান্দুং বারাত জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পাহাড়ি গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধসপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর মুখপাত্র ফার্স্ট অ্যাডমিরাল তুংগুল জানান, নিহত ২৩ জন মেরিন সেনা ইন্দোনেশিয়া ও পাপুয়া নিউ গিনি সীমান্তে টহল দেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একটি প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে প্রশিক্ষণস্থলের পাহাড় ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা আটকে যান এবং পরে উদ্ধার অভিযানে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
তবে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (BNPB) মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে সেনাসদস্য রয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রায় ৮০০ জন উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯টি ভারী খননযন্ত্র উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের অন্তত ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাভা দ্বীপে বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলছে। এ সময়ে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধস প্রায় নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে জাকার্তাসহ পশ্চিম ও মধ্য জাভার বেশ কয়েকটি অঞ্চল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে দুই মাস আগে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১ হাজার ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।











