মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান-এর শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং ইসরায়েলের আগ্রাসনের আশঙ্কার মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, খামেনির অবর্তমানে বা যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা সচল রাখতে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন আলী লারিজানি। তিনি বর্তমানে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যে কাউন্সিল দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক ও সরকারি পদে চার স্তরের উত্তরাধিকার নির্ধারণ এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিকল্প প্রার্থী মনোনয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় বা তিনি নিহত হন, তবে দায়িত্ব দ্রুত নিকটস্থ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে—এমন পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।
তবে লারিজানি শিয়া ধর্মীয় আলেম না হওয়ায় সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণ করতে পারবেন না। তবুও শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ-বাগের ঘালিবাফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নামও উঠে এসেছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্পষ্ট করেননি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার কথাও বলা হচ্ছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে দুই দেশের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাংগঠনিক প্রস্তুতির মাধ্যমে খামেনি আন্তর্জাতিক মহলকে দুটি বার্তা দিতে চেয়েছেন—প্রথমত, নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও রাষ্ট্রের নীতি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হবে না; দ্বিতীয়ত, শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালালেও ইরানের রাষ্ট্রযন্ত্র অচল করা সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য সংঘাত কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ইরান অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।











