মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল–১ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আহত ওই প্রবাসীকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী একজন বাংলাদেশি কর্মী হামলায় আহত হয়েছেন। দূতাবাস তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ড্রোনটি বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। হামলার পর জরুরি সেবা সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন এবং সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়।
কুয়েতের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি জানান, পূর্বনির্ধারিত জরুরি প্রক্রিয়া কার্যকর করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে এলাকা নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে এবং হামলার নেপথ্যে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সরকার এ ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকা, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











