যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। অভিবাসন এজেন্টরা (আইস) আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানোর দাবি করলেও ঘটনাস্থলের একাধিক ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে সেই দাবির কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পায়নি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শনিবারের এই ঘটনার পর শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। রয়টার্স জানায়, চলতি মাসে অভিবাসন এজেন্টদের হাতে মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।
মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করে, নিহত ব্যক্তি এজেন্টদের ওপর হামলা চালালে একজন এজেন্ট আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে এজেন্টদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
তবে রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, নিহত ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেটি হাতে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তিনি পেশায় একজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) নার্স ছিলেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কয়েকজন নারী বিক্ষোভকারীকে ধাক্কা দিলে প্রেটি তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে তাকে পেপার স্প্রে করা হয় এবং পরে একাধিক এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে দেন।
ফুটেজে শোনা যায়, কেউ একজন আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়ে সতর্ক করছেন। এরপর একজন এজেন্ট প্রেটির কাছ থেকে একটি বন্দুক সরিয়ে নেন। কিছুক্ষণ পর আরেক এজেন্ট তার পিঠের দিকে তাক করে চারটি গুলি ছোড়েন। এরপর আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।
ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসসহ নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি ও সান ফ্রান্সিসকোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, ফেডারেল সরকারের ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না এবং রাজ্য সরকার নিজেই তদন্ত করবে।











