যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয় শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা সিটির তুফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া একটি তাঁবুতে হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া আল-মাওয়াসি উপকূলীয় তাঁবু ক্যাম্পে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে জরুরি সেবাকর্মী হুসেইন হাসান হুসেইন আল-সুমাইরিও রয়েছেন।
খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম জানান, গাজা সিটির একাধিক আবাসিক ভবনে কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও এসব হামলার কারণে গাজার মানুষ কোনো স্বস্তি পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। আকাশে ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় তাদের সাঁজোয়া ইউনিট ও যুদ্ধবিমান ‘রুটিন অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই সময় এক রিজার্ভ সেনা কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সীমারেখা হিসেবে পরিচিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে ঘটে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল পূর্ব গাজার দিকে ‘ইয়েলো লাইন’-এর অবস্থান সরিয়ে নিচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।











