বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক বড় অগ্রগতি হলো। ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স। রাজধানী ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে এই কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
দীর্ঘদিন ধরেই একটি আধুনিক অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ থাকলেও জায়গা সংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছিল না। বর্তমান বিওএ সভাপতি ও সেনাপ্রধানের উদ্যোগে সেনাবাহিনীর ত্রিশাল এলাকার ১৭৩.২ একর জমিতে কমপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। যাতায়াত সুবিধার জন্য সেনাবাহিনী নিজ অর্থায়নে আরও ৯ একর জমি ক্রয় করেছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মো. কুতুবউদ্দিন খাম মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কমপ্লেক্সে থাকবে তিনটি ইনডোর স্টেডিয়াম, ফুটবল, হকি, টেনিস, অ্যাথলেটিক্স, শুটিং রেঞ্জ, মিডিয়া সেন্টার, আবাসন সুবিধা, পার্কিংসহ সর্বাধুনিক অবকাঠামো। ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে এখানে মোট ৩৩টি খেলার আয়োজন করা যাবে। ক্রিকেট, গলফ ও রোইং—এই কয়েকটি খেলাই প্রাথমিকভাবে মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে রাখা হয়েছে, যদিও ভবিষ্যতে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিওএ সভাপতি।
কমপ্লেক্সের নির্মাণ তত্ত্বাবধানে রয়েছে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড। দেশীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান ‘ভিত্তি’র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিএলএ, যাদের আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণে ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভিত্তির স্থপতি ইকবাল হাবিব জানান, ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণে অভিজ্ঞতার অভাব থাকায় বিদেশি পরামর্শক যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকেও মাস্টারপ্ল্যানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
যদিও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, তবে পুরোদমে কাজ শুরুর আগে অর্থায়নের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “অর্থ যত দ্রুত পাওয়া যাবে, কাজ তত দ্রুত শুরু হবে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি গালফ দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সহায়তাও নেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম বলেন, “এটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি স্বপ্নের প্রকল্প। আইনগত কোনো বাধা নেই। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট বাজেট ও সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রাথমিক ধাপে একটি ইনডোর স্টেডিয়ামসহ ভূমি উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা, যা শেষ হতে সময় লাগতে পারে ২ থেকে আড়াই বছর। পুরো মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ৩৪ থেকে ৩৮ হাজার কোটি টাকা এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন পেলে ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই কমপ্লেক্স সেনাবাহিনীর জমিতে হলেও ব্যবহার করবে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন। এ বিষয়ে শিগগিরই উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের পাশাপাশি জাতীয় প্রতিযোগিতাও এখানে আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।











