১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে। শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করতেই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার দেশটির নিম্নকক্ষে বিলটির মূল ধারাগুলোতে সম্মতি দেন আইনপ্রণেতারা। পরদিন মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ভোটাভুটিতে ১১৬ ভোটের বিপরীতে মাত্র ২৩ ভোটে বিলটি অনুমোদন পায়।
বিলটি পাসের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এই সিদ্ধান্তকে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক কোনো পণ্যে পরিণত হতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই আইনটি কার্যকরের জন্য সরকারকে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রস্তাবিত আইনের আওতায় রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর একটি তালিকা তৈরি করবে, যেগুলো ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হবে। এছাড়া আইনে হাইস্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জুনিয়র ও মিডল স্কুলে এর আগেই মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ রয়েছে।
বিলটির উদ্যোক্তা সংসদ সদস্য লর মিলার জানান, এই আইনের মাধ্যমে সমাজে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টানা হচ্ছে। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে যুক্ত করার দাবি করলেও বাস্তবে তা ব্যবহারকারীদের একঘরে করছে, মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আইন কার্যকর করতে হলে বয়স যাচাইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থাও চালু করতে হবে। ফ্রান্সে ইতোমধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন পর্নোগ্রাফি দেখার ক্ষেত্রে বয়স যাচাইয়ের নিয়ম চালু রয়েছে, যা এই আইন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্য সরকারও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে জনমত গ্রহণ শুরু করেছে। ফ্রান্সের এই উদ্যোগ ইউরোপজুড়ে শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।











