পুরস্কারপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বিসান ওউদা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক তার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগকারীদের হাতে টিকটক অধিগ্রহণের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বাতিল হওয়া অ্যাকাউন্টটিতে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ লাখ। খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
গাজা থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ পরিবেশন করে আসা এমি অ্যাওয়ার্ডজয়ী এই সাংবাদিক আল জাজিরার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এজে+–এর সঙ্গে যুক্ত। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে টিকটক অ্যাকাউন্ট বাতিলের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে বিসান ওউদা বলেন, “টিকটক আমার অ্যাকাউন্ট মুছে দিয়েছে। সেখানে আমার ১৪ লাখ অনুসারী ছিল এবং চার বছর ধরে আমি ধীরে ধীরে এই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তুলেছিলাম।” তিনি আরও বলেন, আগে কিছু কনটেন্টে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলেও পুরো অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে—এমনটি তিনি আশা করেননি।
এ বিষয়ে আল জাজিরা টিকটকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশ্ন পাঠালেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ওউদার ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর টিকটকে তার নামের অনুরূপ একটি অ্যাকাউন্ট দেখা যায়, যেখানে একটি নোটিশ দেওয়া ছিল—‘কিছু ব্যবহারকারীর কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে এমন পোস্টগুলো অপ্রবেশযোগ্য।’ ওই অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ দৃশ্যমান পোস্টের তারিখ ছিল ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, যা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রায় তিন সপ্তাহ আগের।
বুধবার প্রকাশিত ভিডিওতে বিসান ওউদা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নতুন সিইও অ্যাডাম প্রেসারের মন্তব্যের দিকেও ইঙ্গিত করেন। তার মতে, এসব বিষয়ই হয়তো তার টিকটক অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বাতিল হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।











