অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর আগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছিল। এবার সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে এসব তথ্য এক্সেল শিটে করে বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে। মূলত কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পানিসম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফাওজুল কবির খান ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা। আদিলুর রহমান খান গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে যখন আসিফ মাহমুদ তাঁর ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন। সাধারণ ধারণা হলো, মানুষ সাধারণত বৈধ উপার্জনের অর্থই ব্যাংকে রাখে। দুর্নীতি বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ব্যাংকে রাখা অনেকের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হতে পারে।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণায় বলা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থ গোপন বা বৈধ করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর এবং তথাকথিত করস্বর্গ দেশগুলোতে অর্থ সরিয়ে নেওয়া। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক সময় অবৈধ অর্থ সহজেই বৈধ রূপ পেয়ে যায়।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত এখন পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়ায় একটি অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারির আওতায় থাকে। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব তলব বা জব্দের ঘটনা গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয় এবং তা জনমনে নানা প্রশ্নও তৈরি করে।
গত কয়েক বছরে বহু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব ও জব্দ করার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে অনেক আমানতকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি বা অর্থ পাচারের প্রকৃত চিত্র জানতে শুধু ব্যাংক হিসাবের তথ্যই যথেষ্ট নয়। বরং সংশ্লিষ্ট






