শহরের ব্যস্ত সড়ক হোক কিংবা গ্রামের নিরিবিলি পথ—চারদিকে তাকালেই চোখে পড়ে বৈদ্যুতিক তারে সারি সারি পাখি বসে আছে। কখনো দল বেঁধে, কখনো একা। পরিচিত এই দৃশ্যটি আমাদের মনে কৌতূহল জাগায়—বিদ্যুৎ প্রবাহিত তারে বসেও পাখিরা কেন শক খায় না? আবার কেনই বা তারা বারবার তারের ওপর বসতে পছন্দ করে?
বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বিদ্যুতের মৌলিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। বিদ্যুৎ সব সময় সবচেয়ে কম প্রতিবন্ধকতার পথ বেছে নেয়। বৈদ্যুতিক তারের ভেতরে থাকা তামার পরিবাহক দিয়ে বিদ্যুৎ দ্রুত প্রবাহিত হয়।
একটি পাখি যখন বৈদ্যুতিক তারে বসে, তখন তার দুই পা একই তারের একই ভোল্টেজে থাকে। ফলে বিদ্যুৎ পাখির শরীর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কোনো বিকল্প পথ পায় না। এই কারণে পাখির শরীরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল করে না এবং শকও লাগে না।
তবে বিপদ ঘটে তখনই, যখন পাখির শরীর একসঙ্গে দুটি ভিন্ন ভোল্টেজের উৎস স্পর্শ করে—যেমন তার ও বৈদ্যুতিক খুঁটি বা আরেকটি তার। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শুধু নিরাপত্তাই নয়, তারে বসার পেছনে পাখিদের আরও কিছু প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে। শীতকালে বৈদ্যুতিক তার কিছুটা উষ্ণ থাকে, ফলে পাখিরা সেখানে বসে শরীরের তাপ ধরে রাখতে পারে। পাশাপাশি দল বেঁধে বসলে তাপ সংরক্ষণ আরও সহজ হয়।
এ ছাড়া উঁচু তারে বসলে শিকারি প্রাণীর আক্রমণ থেকে তুলনামূলক নিরাপদ থাকা যায়। একই সঙ্গে উঁচু জায়গা থেকে চারপাশে খাবারের সন্ধান করাও সহজ হয়—পোকামাকড়, ফল বা বীজ দ্রুত চোখে পড়ে।
বিজ্ঞানীরা আরও মনে করেন, বৈদ্যুতিক তার পাখিদের জন্য এক ধরনের সামাজিক মিলনক্ষেত্রও বটে। বিশেষ করে অভিবাসী পাখিরা দলগত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সমন্বয়ের জন্য তারকে ব্যবহার করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পাখিদের তারে বসা কোনো অদ্ভুত কাণ্ড নয়; বরং এটি নিরাপত্তা, উষ্ণতা, খাদ্য সংগ্রহ ও সামাজিক যোগাযোগের একটি কার্যকর উপায়। আর শক না খাওয়ার রহস্য লুকিয়ে আছে বিদ্যুতের সহজ কিন্তু চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক নিয়মে।


